ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির সঙ্গে কিছু রিপাবলিকান নেতার দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির বাড়তি দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েও চাপের মুখে পড়ছেন দলটির প্রার্থীরা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলে দেশটিকে ‘ধ্বংস’ করার সিদ্ধান্ত তার সামনে রয়েছে। একই ভাষণে তিনি অবশ্য কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেন এবং দাবি করেন, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন নেতা ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী যুদ্ধের কারণে বাড়তে থাকা জ্বালানি খরচ ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত সংঘাতের অবসানের পক্ষে কথা বলছেন।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প অবশ্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যুদ্ধ ছাড়াও অন্যান্য কারণের কথা উল্লেখ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য ইরান যুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কিছু প্রার্থী ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। তাদের বক্তব্যে জ্বালানি মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জনমত জরিপেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগস্টের এক জরিপে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া কিছু ভোটার জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনার অন্যতম কারণ। জরিপটি ২১ থেকে ২৪ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের ওপর পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, আরেকটি সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে জনসমর্থন কমার চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগের বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরোধিতা সর্বজনীন নয়। দলটির অনেক নেতা এখনো তার নীতিকে সমর্থন করছেন। ফলে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে রিপাবলিকানদের অবস্থান একক নয়; বরং নির্বাচনের আগে যুদ্ধ, জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে দলের ভেতরে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ট্রাম্প জাতিসংঘে কঠোর অবস্থান জানানোর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকও হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
ফলে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে এখন একদিকে সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ- অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানি মূল্য ও নির্বাচনী রাজনীতির চাপ- দুই দিকই সামনে এসেছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে