সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির সুবেদার মেজর ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য নতুন হারে সীমান্ত ভাতা নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী গ্রেড ও চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় নিয়ে এই ভাতার হার ঠিক করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৪ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা গেজেটটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করা হয়।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেডের পাশাপাশি চাকরির বয়সের ওপরও সীমান্ত ভাতার পরিমাণ নির্ভর করবে। চাকরির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাতার হারও বাড়বে।
গ্রেড-২০- এর কর্মচারীরা চাকরির বয়স পাঁচ বছরের কম হলে মাসে ১ হাজার ৪৪০ টাকা সীমান্ত ভাতা পাবেন। পাঁচ থেকে ১০ বছরের কম চাকরিতে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ থেকে ১৫ বছরের কমে ২ হাজার ১৬০ টাকা, ১৫ থেকে ২০ বছরের কমে ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরির ক্ষেত্রে ৩ হাজার ১২০ টাকা পাবেন।
গ্রেড-১৯- এর জন্য চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ভাতার হার ১ হাজার ৫৬০ থেকে ৩ হাজার ২৪০ টাকা। গ্রেড-১৮- এ ১ হাজার ৬৮০ থেকে ৩ হাজার ৩৬০ টাকা এবং গ্রেড-১৭- তে ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেড-১৬- এর কর্মচারীরা ১ হাজার ৯২০ থেকে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, গ্রেড-১৫- এ ২ হাজার ৪০ থেকে ৪ হাজার ৮০ টাকা এবং গ্রেড-১৪- এ ২ হাজার ১৬০ থেকে ৪ হাজার ৫৬০ টাকা পর্যন্ত সীমান্ত ভাতা পাবেন।
গ্রেড-১৩- এর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাতা ২ হাজার ২৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। গ্রেড-১২- তে ২ হাজার ৫২০ থেকে ৫ হাজার ২৮০ টাকা এবং গ্রেড-১১- তে ২ হাজার ৬৪০ থেকে ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেড-১০- এর কর্মচারীরা চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ২ হাজার ৭৬০ থেকে ৫ হাজার ৬৪০ টাকা এবং গ্রেড-৯- এর কর্মচারীরা ২ হাজার ৮৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা সীমান্ত ভাতা পাবেন।
গ্রেড-৮- এ ভাতার পরিমাণ ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার ২৪০ টাকা, গ্রেড-৭- এ ৩ হাজার ১২০ থেকে ৬ হাজার ৩৬০ টাকা এবং গ্রেড-৬- এ ৩ হাজার ২৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের নতুন আদেশ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বর্তমানে প্রচলিত হারেই সীমান্ত ভাতা পাবেন। পরদিন অর্থাৎ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর হবে। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রেও ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকরের কথা জানানো হয়েছে।
গেজেটে প্রেষণে কর্মরত কর্মচারীদের জন্যও বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। কোনো প্রেষণপ্রাপ্ত কর্মচারী সীমান্ত ভাতা গ্রহণ করলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিজ বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না।
নতুন এই কাঠামোর ফলে বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সীমান্ত ভাতার পরিমাণ গ্রেড ও চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নির্ধারিত হলো।
সদ্য সংবাদ/এসকে