মিজানের এই লড়াইয়ের পেছনের গল্পটা শুরু হয়েছিল পর্তুগালের লিসবনে। লন্ডনে স্থায়ী হওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েক বছর লিসবনে ছিলেন। সেখানে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন সোচ্চার। ‘সেভ বাংলাদেশ পর্তুগাল’ এবং ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগাল’ গড়ে তুলে তিনি প্রবাসীদের আইনি ও সামাজিক সাহায্য করতেন। লিসবনের মার্টিম মনিজের দোকানে কিংবা আরইওসের ক্যাফেতে বসলে এখনো তার করা কাজের গল্প শোনা যায়। পর্তুগাল প্রবাসীরা মনে করেন, মিজান তাদেরই একজন। আর তাই লিসবন থেকেই তার এই নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন জানাচ্ছেন অনেক প্রবাসী।
মিজানের রাজনীতির শুরুটা হয়েছিল ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করে ২০০৯ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান লন্ডনে। বর্তমানে তিনি পেশায় একজন ট্রেইনি ব্যারিস্টার।
মিজান ভাই কেন নির্বাচন করছেন? চা পানের আড্ডায় তার সহজ উত্তর—"আমি কেবল কাউন্সিলর পদ পেতে চাই না, মানুষের কাজ করার একটা শক্ত জায়গা চাই।" হোয়াইটচ্যাপেলে যারা থাকেন, তাদের সমস্যার শেষ নেই। ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি মেরামত হয় না, রাস্তায় ময়লা জমে থাকে, আর পার্কিং সমস্যা তো আছেই। মিজান ও তার দল ‘টিম হোয়াইটচ্যাপেল’ অঙ্গীকার করেছেন, জয়ী হলে তারা পুলিশের টহল বাড়াবেন এবং কাউন্সিল হাউসের মেরামত দ্রুত করবেন।
মিজানের সঙ্গে এই লড়াইয়ে আছেন আলী আকবর, আব্দুল বশীর এবং মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার জামি আলী। তারা সবাই এখন দিনরাত মানুষের দরজায় ঘুরছেন। ভোটারদের প্রধান দাবি—একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি, যিনি সশরীরে তাদের সমস্যা শুনবেন।
মিজান কেবল বিদেশে নেতৃত্ব দেন না, বরিশালে তার নিজের নামে একটি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আছে। সেখান থেকে তিনি গরিব মানুষদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ দেন। বিদেশের মাটিতে থেকেও দেশের মাটির প্রতি এই টান তাকে সাধারণ প্রবাসীদের কাছে আস্থাভাজন করে তুলেছে।
লন্ডনের এই নির্বাচন আসলে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর লড়াই। মিজানুর রহমান খান সেই লড়াইয়ের সামনের সারিতে আছেন। লিসবনের রাজপথ থেকে আমরাও তার সেই জয়ের সংবাদের অপেক্ষায় আছি। ৭ মে তারিখটিই বলে দেবে, হোয়াইটচ্যাপেলের মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা রাখলো।