বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নেতৃত্বের পালাবদল নিয়ে নিজের মূল্যায়ন জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের সময়ে। বুলবুলের ক্রিকেটীয় জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় দায়িত্ব দিতে না পারার কারণে তার নেতৃত্ব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মনে করেন সুজন।
বিসিবির সভাপতির দায়িত্বে বুলবুল ছিলেন প্রায় ১০ মাস। তার আগে বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। দুজনের কেউই দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। বিতর্কিত নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডেরও পরিবর্তন ঘটে।
সাম্প্রতিক দুই সভাপতির কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে ফারুক আহমেদের সময় নিয়েও হতাশার কথা জানান সুজন। তার ভাষ্য, ফারুককে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল।
ফারুকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে সুজন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ফারুককে চেনেন এবং তার কাছ থেকেই ক্রিকেটের অনেক কিছু শিখেছেন। এ কারণে ফারুকের প্রতি তার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে বিসিবির সভাপতি হওয়ার পর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত তাকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দিয়েছে।
ফারুক আহমেদ বিসিবির সভাপতি হওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ান সুজন। তার দাবি, তিনি নিজে থেকে সরে যাননি; বরং কার্যত তাকে বোর্ড থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা দিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
তবে এসব ঘটনার কারণে ফারুকের প্রতি তার শ্রদ্ধা কমেনি বলে জানান সুজন। ক্রিকেটার হিসেবে ফারুককে নিজের অন্যতম আদর্শ হিসেবেই দেখেন তিনি। কিন্তু বোর্ড ছাড়ার সময়কার ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সময়ের প্রসঙ্গে আরও কঠোর সমালোচনা করেন সুজন। তার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির সময় ছিল সেটি। বুলবুলের ক্রিকেটীয় মেধা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আশপাশের মানুষ বাছাইয়ে ভুল ছিল বলে মনে করেন তিনি।
সুজনের ভাষ্য, বুলবুলের সঙ্গে পাইলট ও ফাহিমের মতো ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকলেও পুরো ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত সমন্বয় ছিল না। নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় শুরুতেই যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে পরবর্তী সময়ে ভালো ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, ক্রিকেটের উন্নয়ন নিয়ে নানা আলোচনা হলেও সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল। ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত যেন ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থকে ছাপিয়ে না যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন সুজন।
এদিকে বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। ক্রিকেটার হিসেবে তামিমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দেশের বর্তমান ক্রিকেট সম্পর্কে তার সরাসরি ধারণা বোর্ড পরিচালনায় কাজে আসবে বলে মনে করেন সুজন।
সংগঠক হিসেবে তামিমের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম হলেও ক্রিকেটীয় জ্ঞান ও মেধার দিক থেকে তার সক্ষমতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই বলেও মন্তব্য করেন সুজন।
সদ্য সংবাদ/এসকে