পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে কূটনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম আলোচনায় বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় অবস্থান করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তি নেই।
হুমায়ুন কবির জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন বলে খবর এলেও বিষয়টি কূটনৈতিক চ্যানেলে যাচাই করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে তারা অবগত নন। ফলে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বেনজীরের অবস্থান সম্পর্কে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ওপর নজরদারি রাখার জন্য দেশটির সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ বা বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে পৃথক কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে হত্যা, হয়রানি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় নেওয়ার বিষয়ে সরকার তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে