মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে। সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগের মধ্যে তেলের বাজারে এই ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৩৯ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলার ৬৭ সেন্টে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৭ সেন্ট।
এর আগে বুধবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোয় হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছিল। তবে এক দিনের ব্যবধানেই বাজারে আবারও দরপতন দেখা গেল।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় হামলার শিকার হয়ে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারাবাহিক এসব হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরানের দাবি, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলা জোরদার করছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এই এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে তেলের দামে।
তবে অন্যদিকে, জাহাজে তেল পরিবহনের ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ বাজারে দাম কমার চাপ তৈরি করছে। ফলে একদিকে সংঘাত ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা- এই দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে