জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে যখন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে, ঠিক তখনই ম্যানহাটনের ব্যস্ত এলাকায় একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস ঘিরে তৈরি হয় উদ্বেগ। সন্দেহজনক বস্তু হিসেবে সেটিকে শনাক্ত করার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের কয়েকটি তলা খালি করে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে ক্রাইসলার ভবনের কাছাকাছি একটি ফুটপাতে স্যুটকেসটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। জায়গাটি জাতিসংঘের সদর দপ্তরের খুব বেশি দূরে না হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় নিউইয়র্ক পুলিশ।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার কিছু আগে ইস্ট ৪৩তম স্ট্রিট ও থার্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি স্যুটকেসটির সন্ধান পাওয়া যায়। পরে একটি প্রশিক্ষিত কুকুর সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত করলে দ্রুত ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও জরুরি বিভাগের সদস্যদের পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- এফবিআইসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত হন।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পুলিশ ওই এলাকার কয়েকটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেয়। ৪২তম থেকে ৪৪তম স্ট্রিট এবং সেকেন্ড অ্যাভিনিউ থেকে লেক্সিংটন অ্যাভিনিউ পর্যন্ত কিছু অংশে যান ও মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
একই সময়ে ক্রাইসলার ভবনের প্রথম পাঁচ তলা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে ব্যস্ত ওই এলাকায় সাময়িকভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে স্যুটকেসটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা তল্লাশি চালানোর পর স্বস্তির খবর আসে। এনওয়াইপিডির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল জানায়, স্যুটকেসটির ভেতরে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা শেষে সেটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ধাপে ধাপে সড়কে আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয় এবং ভবনটিতেও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরতে শুরু করে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশও জানিয়েছে, ওই স্যুটকেস থেকে জনসাধারণের জন্য কোনো বিস্ফোরক হুমকি ছিল না।
সূত্র: রয়টার্স
সদ্য সংবাদ/এসকে