যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধাক্কার পর দেশটির ইরান নীতি নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাতের বিষয়ে কী ধরনের অবস্থান নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম ৭৬ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ দশমিক ৩৬ ডলারে। আগের দামের তুলনায় এই বৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও একই হারে বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলে ৬৩ সেন্ট যোগ হয়ে জ্বালানি তেলটির দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬ দশমিক ৭২ ডলারে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে টানা দরপতনের ধারায় ছিল বিশ্ববাজারের প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেল। সর্বশেষ লেনদেনেও উভয় ধরনের তেলের দাম গত চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার খবরের পর বাজারের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিষয়ক সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে। সংঘাতের বিস্তার, কূটনৈতিক তৎপরতা কিংবা সামরিক অবস্থানের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
জ্বালানি বাজারে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব নতুন নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ইরান সংঘাতের গতিপথ যুক্ত হওয়ায় তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটনের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এজে