পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাঁজোয়া যান, জলকামান ও বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর, পল্লবী, রূপনগর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। বিশেষ করে মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে সাঁজোয়া যানসহ পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে দুই দফায় মিছিল করেছেন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এর আগে সকালে পল্লবী শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। একইভাবে রূপনগরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় সড়কে নামার চেষ্টা করা শ্রমিকদেরও ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়।
মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, মিরপুর-১১ ও শিয়ালবাড়ী এলাকায় কয়েক দফায় শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মো. মহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা রাখা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা সরকারি সম্পদের ক্ষতি করার চেষ্টা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
মিরপুরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, বুধবার শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিতে পারেননি। অনেক পোশাকশ্রমিক কাজে ফিরেছেন এবং বেশ কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও কাজ করছেন বলে জানান মহিদুল ইসলাম।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। প্রকৃত শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা শ্রমিকদের উসকে দিয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনগণের নিরাপত্তা, শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সদ্য সংবাদ/এসএস