গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় নিহত তৌফিক হাসানকে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
তৌফিক ওই গ্রামের মৃত তবি খাঁর ছেলে। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ শুরু করেন একটি পোশাক কারখানায়। তাঁর উপার্জনেই চলত স্ত্রী, শিশুসন্তান ও বৃদ্ধা মায়ের সংসার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দুপুরে খাবার খেয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সহিংসতার শিকার হন তৌফিক। অভিযোগ রয়েছে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিছিলের ভিডিও ধারণের সন্দেহে অন্য একটি পোশাক কারখানার সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে খবর পেয়ে তাঁর ভাই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তৌফিকের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের দাবি, তাঁর কাছে ভিডিও ধারণের উপযোগী কোনো স্মার্টফোনও ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, শিশুপুত্র ও বৃদ্ধা মা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে তৌফিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস