বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান স্মরণ করে যশোরে তাঁর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনভর কবর জিয়ারত, ধর্মীয় আয়োজন, দোয়া মাহফিল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে তরিকুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শুরু হয়। জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পবিত্র কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলা বিএনপির নেতারা এবং তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিতসহ দলীয় নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্মরণানুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যশোরের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তরিকুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিভিন্ন কলেজে অনার্স কোর্স চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, খেলার মাঠ উন্নয়ন, বিজ্ঞানাগার ও লাইব্রেরি স্থাপনে তিনি অবদান রেখেছেন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, যশোরের উন্নয়নে তরিকুল ইসলামকে সহযোগিতা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁদের অবদানও স্মরণ করেন তিনি।
শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। জেলা মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে মুসল্লিদের দেওয়া হয় জায়নামাজ, টুপি ও তাসবিহ।
তরিকুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনায় যশোর সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এজে