কমদামি বা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে নিম্নস্তরের সিগারেটের বিদ্যমান ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ মূল্যস্তর পরিবর্তন করে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সিগারেটের দাম নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের বিধিমালা-সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধের পাশাপাশি এ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি কমানোই দাম পুনর্নির্ধারণের অন্যতম লক্ষ্য। এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম ১০ শলাকার প্যাকেটে ২ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সে সময় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল।
এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ছয় মাস বা ১৮০ দিনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হবে।
সরকারের আশা, এই সুবিধার ফলে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাবে। এতে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তার পাশাপাশি জনজীবনের ভোগান্তি কমবে, শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।
একই বৈঠকে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও সম্প্রসারণসংক্রান্ত একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চাইলে এতে সংশোধন আনতে পারবে। সরকারের মতে, চুক্তিটি দুই পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারী দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় হংকং বর্তমানে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। তৈরি পোশাক, বস্ত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগ রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
সদ্য সংবাদ/ এআর