জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। গত বছর রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিরোধিতায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া এসব কর্মকর্তার আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তাদের দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে পৃথক ২০টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মার্জনার আবেদন জানানোর পর তা অনুমোদন করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়।
শাস্তি মওকুফ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ম, আমীমুল ইহসান ও সাধন কুমার কুণ্ডু।
এ ছাড়া যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান ও সানোয়ারুল কবির এবং উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও শাহাদাৎ জামিলের শাস্তিও বাতিল হয়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশরও এ তালিকায় রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুন জাতীয় রাজস্ব ভবনের সামনে বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ওই সময় এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন একপর্যায়ে বড় আকার ধারণ করে। রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও ও অবরোধের পাশাপাশি সারাদেশে দুই দিনের কর্মবিরতি পালন করা হয়। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আবারও কর্মসূচি দেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানকে এনবিআর কার্যালয়ে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরের কার্যক্রমকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ সেবার আওতাভুক্ত করে। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে আন্দোলন শেষ হলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি। বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। এর মধ্যে ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানও করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। কারও ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অবসর, কাউকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কয়েকজনের বেতন গ্রেড কমিয়ে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এসব শাস্তিমূলক আদেশ বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ২০ কর্মকর্তা ওই দণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস