জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমাতে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে সংসদীয় নথি ও তথ্য ব্যবস্থাপনার বড় একটি অংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির নেতৃত্বে কমিটির সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় সংসদের নথি সংরক্ষণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন কার্যক্রমকে দ্রুত ও সহজ করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবিত ই-পার্লামেন্টে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ই-পার্লামেন্ট চালুর প্রস্তুতি হিসেবে ডেপুটি স্পিকারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার। এই কমিটি সিস্টেমটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, কারিগরি সক্ষমতা, বাস্তবায়নের ধাপ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় যাচাই করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা আয়োজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ওই উপস্থাপনায় প্রস্তাবিত প্রযুক্তি ব্যবস্থার কার্যক্রম, সক্ষমতা ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ই-পার্লামেন্ট চালু হলে সংসদের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে কাগজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নথি সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য ইউএনডিপি, বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস