রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সকাল থেকেই রাজশাহী বাস টার্মিনালে এসে অনেক যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে কখন বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কাউন্টার সংশ্লিষ্টরাও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দর্শনার উদ্দেশে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘রাব্বি পরিবহন’-এর একটি বাস নাটোরে আটকে দেন স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকরা। পরে ওই বাসের যাত্রীদের নামিয়ে ‘তুহিন পরিবহন’-এর একটি বাসে তুলে গন্তব্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদের ভাষ্য, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ‘রাব্বি পরিবহন’-এর বাস নাটোরে প্রবেশ করায় স্থানীয় মালিক-শ্রমিকরা সেটিকে রাজশাহীতে ফেরত পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশিয়ায় নাটোরের ছয় থেকে সাতটি বাস আটকে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর দুই জেলার মধ্যে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপের পক্ষ থেকে নাটোরের ‘তুহিন পরিবহন’- এর তিনটি বাস আটক করা হয়। পরে নাটোরে থাকা ‘রাব্বি পরিবহনের’ বাসটি ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের তিনটি বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এর মধ্যেই দুই পক্ষের বিরোধ আরও জটিল আকার নেয়। পরে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপ রাজশাহী থেকে সব আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।
এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য গন্তব্যে নিয়মিত বাস চলাচল করায় হঠাৎ পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
রংপুর যেতে বাস টার্মিনালে আসা শাহানাজ নামে এক যাত্রী বলেন, বাস ছাড়ার আশায় কাউন্টারে বসে আছেন তিনি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা কিছুক্ষণের মধ্যে বাস ছাড়ার কথা বললেও এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও বাস ছাড়েনি।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানান, সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। বিশেষ করে নাটোরের ওপর দিয়ে যেসব বাস চলাচল করে, সেগুলো বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি জানতে তিনি বাস টার্মিনালে যাচ্ছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে নাটোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ দাবি করেন, ঢাকাগামী কোচগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মিটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিরোধ নিরসনে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ ও নাটোরের পরিবহন মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. গাজিউর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিশ। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী বলেন, বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে এবং সেটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধের বর্তমান কারণ তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দুই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধের দ্রুত অবসান না হলে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলাগুলোর যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদ্য সংবাদ/এসকে