নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বস্তি যেন কাটছেই না। একদিকে মাছের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কয়েকটি সবজির দরও আবার ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে চাপে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা।
দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপণ্য। কোনো কোনো পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্য পণ্যে বাড়তি দামের চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
মাছের বাজারেও বেড়েছে অস্বস্তি। নদীতে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে। নদীর অন্যান্য মাছের কিছু দাম কমলেও সেগুলো এখনও স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে।
এদিকে রুই, কাতলা ও তেলাপিয়াসহ চাষের মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এসব মাছের দাম বাড়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি বিক্রেতারা।
সবজির বাজারে সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে সেই স্বস্তিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিম, বরবটি ও বেগুনের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
তবে সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পটল, ঢেঁড়স ও কাঁচা মরিচ।
বিক্রেতারা বলছেন, পণ্যের দাম বাড়া-কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রভাবও পড়েছে বাজারের বেচাকেনায়। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক জায়গায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বেচাবিক্রিও কমেছে।
অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরও এখন পর্যন্ত পণ্যের দামে এর সরাসরি প্রভাব দেখা যায়নি। তবে সীমিত আয়ের মানুষের উদ্বেগ অন্য জায়গায়।
তাদের মতে, বেসরকারি খাতে গড় মজুরি যে হারে বাড়ছে, তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। ফলে আয় বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে মাস শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরবে এবং সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে