দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার পেছনে বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় সক্ষমতা না বাড়ানো ও নীতিগত ভুলকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তাঁর দাবি, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করায় একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়েছে, অন্যদিকে সরকারের ওপর বেড়েছে আর্থিক চাপ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্কে এসব কথা বলেন তিনি। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির ফলে প্রয়োজনের বাইরে বিনিয়োগ করতে হয়েছে সরকারকে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে শুধু বিনিয়োগই বাড়েনি, এর সঙ্গে সরকারের নিয়মিত ব্যয়ের চাপও বেড়েছে। বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।
দেশীয় জ্বালানি সম্পদের ব্যবহারের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের পর দেশে নতুন করে কার্যকর জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধানেও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এ সময়ে আমদানিনির্ভরতার দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যানের মতে, জ্বালানি খাতে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনিয়োগ করা জরুরি। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার পরিবর্তে বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
তবে দ্রুত বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান জালাল আহমেদ। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতে দেশে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বায়ুশক্তি নিয়েও আলোচনা থাকলেও বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সুষম ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন জরুরি। একই সঙ্গে অতীতের ভুল সিদ্ধান্ত, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে পুরো ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের মতে, জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো সম্ভব হলে শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখা সহজ হবে। এর পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও বাড়ানো সম্ভব হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে