চায়ের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা চিরদিনের। তবে দুধ-চিনির চায়ের পাশাপাশি এখন গ্রিন টি ও নানা ধরনের ভেষজ চায়ের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই এসব চা পান করছেন। এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নীল রঙের ভেষজ চা, যা তৈরি হয় অপরাজিতা ফুল দিয়ে।
অপরাজিতা ফুলের শুকনো বা তাজা পাপড়ি গরম পানিতে ফুটিয়েই তৈরি করা যায় এই চা। স্বাভাবিকভাবেই নীল রঙের এই পানীয় দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এর নানা ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতার কথাও বলা হয়।
কেন উপকারী অপরাজিতা ফুলের চা?
অপরাজিতা ফুলে অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। নিয়মিত এই চা পান করলে বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।
মানসিক চাপ কমাতেও অপরাজিতা ফুলের চা উপকারী হতে পারে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি স্নায়বিক বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমানো এবং অবসাদ ও বিষণ্ণতা দূর করতেও এর ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই চা সহায়ক হতে পারে। এ কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে এই চা ব্যবহার করা উচিত নয়।

অপরাজিতা ফুলের চা হজমের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। পেট ভার লাগা, পেট ফাঁপা কিংবা ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যা কমাতে এটি উপকার দিতে পারে।
এ ছাড়া এই চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুষ্ক ত্বক ও চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরাও উপকার পেতে পারেন বলে দাবি করা হয়।
যেভাবে তৈরি করবেন নীল চা
উপকরণ:
৪ থেকে ৫টি তাজা বা শুকনো অপরাজিতা ফুল, ১ কাপ পানি, ১ চা-চামচ মধু ও সামান্য লেবুর রস।
প্রণালি:
প্রথমে একটি পাত্রে এক কাপ পানি ফুটিয়ে নিন। অপরাজিতা ফুল ভালোভাবে ধুয়ে ফুটন্ত পানিতে দিয়ে কয়েক মিনিট জ্বাল দিন। এরপর চুলা বন্ধ করে পাত্রটি ৩ থেকে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন।
পরে চা ছেঁকে নিয়ে তাতে সামান্য লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। লেবুর রস মেশানোর পর নীল চায়ের রং আরও গাঢ় বা বেগুনি হয়ে যেতে পারে।
তবে নীল চা খেলেই দ্রুত ওজন কমবে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে কিংবা মানসিক চাপ দূর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এটি পানীয় হিসেবে গ্রহণ করাই ভালো। সূত্র: আনন্দ বাজার
সদ্য সংবাদ/ এআর