বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি কার্যকর, শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক।
সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন ফলকার তুর্ক। সেখানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ফলকার তুর্ক বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের ওপর নজরদারি করতে পারে—এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান আমরা জানিয়ে আসছি।’
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ওই প্রতিবেদনে মোট ৪৪টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সুপারিশগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর স্বাধীন নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সুপারিশে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের এখতিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিতে হবে। কমিশনের পর্যাপ্ত অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগপ্রক্রিয়া চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর