ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে বড় ধরনের কৌশল হাতে নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই পরিকল্পনার আওতায় ইরানকে মোকাবিলায় আঞ্চলিক মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আরও দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরিকল্পনাটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা যৌথভাবে এর কাঠামো তৈরি করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ‘আরও বড় কিছু’ করার ইচ্ছা ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জানিয়েছেন ট্রাম্প। প্রস্তাবিত কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী করা এবং ইরানকে মোকাবিলায় নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ তৈরি করা।
যে তিন লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
পরিকল্পনার প্রথম দিক হিসেবে ইরানবিরোধী আঞ্চলিক মিত্রদের একটি নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে ঘিরে যে সংঘাত ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনের পথও খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরায়েল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনা এবং ইসরায়েল-লেবানন বিদ্যমান চুক্তি কার্যকর করার বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে।
পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতা আরও বাড়ানো। বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। এমন একটি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সেটিকে ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হতে পারে।
ইসরায়েলের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন কৌশল বাস্তবায়নে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী ২৭ অক্টোবর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর কিছুদিন পর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধারণা, ইসরায়েলের নির্বাচনের পর যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারা ওয়াশিংটনের নতুন আঞ্চলিক কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত থাকবে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রগুলোর দাবি, নির্বাচনের পর ইসরায়েলে আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও ট্রাম্প তাঁর মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবেন বলে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন।
চূড়ান্ত হয়নি পরিকল্পনা
সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দুটি বৈঠকে ট্রাম্প সম্ভাব্য এই কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরিকল্পনার দিক তুলে ধরা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন, পুরো কৌশল চূড়ান্ত করতে মার্কিন কর্মকর্তাদের আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি এখন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যায়ে থাকলেও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে এনে আঞ্চলিক মেলবন্ধন তৈরিই ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। তবে প্রস্তাবিত কাঠামোতে সংশ্লিষ্ট সব দেশ শেষ পর্যন্ত একমত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে