মাদক সমস্যা, সীমান্ত অপরাধ এবং শরণার্থীকেন্দ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রেস, মিডিয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি। একই সঙ্গে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের পারস্পরিক ভৌগোলিক ও সামাজিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি কক্সবাজারকে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সৌজন্য মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী সাচিং প্রু এসব কথা বলেন।
পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, ‘কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম একই সুতোয় গাঁথা।’ মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে এবং পর্যটনকে দেশ-বিদেশে প্রমোট করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী সাচিং প্রু আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগের বিষয় হলো মাদক। সড়ক ও নৌপথে সীমান্ত পেরিয়ে যেভাবে দেশে মাদক প্রবেশ করছে, তাতে এ নীরব ঘাতক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এর থেকে মুক্ত হতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা জরুরি।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং সীমান্ত অপরাধ নিয়ে মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি, আরও বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ মাদক কারবারি, চোরাচালান, নারী ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের মতো বিপজ্জনক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এসব সংকট নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি সুনির্দিষ্ট প্রেজেন্টেশন ও প্রস্তাবনা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের সব সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পরামর্শ করে জেলার দায়িত্ব পালনে কাজ করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঐকান্তিক সহযোগিতায় কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।
কক্সবাজারের পর্যটন ও সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের আধুনিক পর্যটন শহর হিসেবে রূপান্তর করা হবে। আমাদের লক্ষ্য পাহাড়ি বৈচিত্র্য ও সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রশংসা করে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও গঠনমূলক উন্নয়নে সাংবাদিকেরা সব সময় জনগণের পাশে থেকেছেন। আপনারা বস্তুনিষ্ঠ ও প্রেজেন্টেশনভিত্তিক সংবাদের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা। আমি আপনাদেরই একজন সদস্য হিসেবে দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সদস্য অ্যাডভোকেট আবু সিদ্দিক উসমানী এবং শামসুল হক শারেকসহ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা।
সদ্য সংবাদ/ এআর