ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে রিয়াদে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রাও বেড়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওগ্লু সৌদি আরব সফর করবেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও শিগগির রিয়াদে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। বৃহস্পতিবার গোষ্ঠীটি দাবি করে, সৌদির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনাও ছিল বলে দাবি করেছে তারা।
অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাইফ ও ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ঠেকানো হয়েছে। একই সময়ে মক্কা, জেদ্দা ও ইয়ানবু এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের বিষয়টি সামনে আসে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, চুক্তির আওতায় রিয়াদকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতেই সামরিক পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে পাকিস্তান ও তুরস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থানের কথা জানা গেছে। এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছিলেন, মক্কা চুক্তিতে জোটগত প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার রয়েছে এবং সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন পূরণে তুরস্ক প্রস্তুত।
এর মধ্যেই পাকিস্তান ও তুরস্ককে সরাসরি সতর্ক করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেছেন, দুই দেশ সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধে যুক্ত হলে তাদের ‘লোহার মুষ্টি’ দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।
সদ্য সংবাদ/ এআর