জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রতিবাদ। নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। ফলে বক্তব্যের সময় সাধারণ পরিষদের বড় একটি অংশ ফাঁকা হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। তার বক্তব্য শুরুর আগে এবং বক্তব্য চলাকালে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা হল ত্যাগ করেন। ফিলিস্তিনি মিশনও আগে থেকেই এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াকআউটের পাশাপাশি অধিবেশন কক্ষে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় দুয়োধ্বনি ও স্লোগানও শোনা যায়। জবাবে নেতানিয়াহু হল ছেড়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় কোন কোন দেশের প্রতিনিধিরা কক্ষ ছেড়েছেন- এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যাগত পার্থক্য রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধির ওয়াকআউটের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি পক্ষের হিসাবে ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিদল অনুপস্থিত ছিল বা বক্তব্যের শুরুতে কক্ষ ছেড়ে যায়। তবে এই তালিকার সব দেশ যে শুধুমাত্র প্রতিবাদ হিসেবে বেরিয়ে গেছে, তা নিশ্চিত নয়; কিছু দেশের আসন আগে থেকেই ফাঁকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি পক্ষের প্রকাশিত ৭৭ দেশের তালিকায় রয়েছে- সুরিনাম, টুভালু, তুর্কমেনিস্তান, ইয়েমেন, মিসর, পানামা, সেনেগাল, ফিলিস্তিন, সুদান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, ভেনেজুয়েলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেলিজ, কঙ্গো, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, টোঙ্গা, উজবেকিস্তান, অ্যাঙ্গোলা, বার্বাডোস, কলম্বিয়া, কোমোরোস, ডমিনিকা, জিবুতি, উত্তর মেসিডোনিয়া, সান মারিনো, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, ব্রুনেই দারুসসালাম, ব্রাজিল, চিলি, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, লেবানন, লাইবেরিয়া, ইরিত্রিয়া, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, জর্ডান, নিকারাগুয়া, মাদাগাস্কার, নাইজার, পেরু, সেন্ট লুসিয়া, স্লোভেনিয়া, আফগানিস্তান, বাহামাস, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বতসোয়ানা, উত্তর কোরিয়া, ইসোয়াতিনি, সিরিয়া, উগান্ডা, পাকিস্তান, লেসোথো, বলিভিয়া, স্পেন, কিউবা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরান, কিরগিজস্তান, ইরাক, মোজাম্বিক, মিয়ানমার, আয়ারল্যান্ড, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, নামিবিয়া, মালয়েশিয়া, গায়ানা ও কেনিয়া।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কলম্বিয়া, আজারবাইজান ও গ্রিসসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অধিবেশন কক্ষে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও কক্ষে অবস্থান করেছিল বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর ভাষণে ওয়াকআউট অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি প্রতিবাদ হিসেবে কক্ষ ত্যাগ করেছেন। এবারও গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যে এই ঘটনা ঘটল।
সদ্য সংবাদ/এসকে