প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ-মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গভীর করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে একটি সংলাপ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সেবা | সম্পৃক্ততা | সংলাপ আপনার কথা, আগামীর পথ!’। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম, গত ১৮০ দিনের অগ্রগতি, প্রবাসীদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে হাইকমিশনের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা, মতামত, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো সরাসরি শোনা হয়।
প্রথম ১৮০ দিনে হাইকমিশনের কনস্যুলার, শ্রম ও কল্যাণ শাখা সম্মিলিতভাবে ৪৬ হাজারেরও বেশি নথিভুক্ত সেবা কার্যক্রম ও হস্তক্ষেপ পরিচালনা করেছে।
একই সময়ে হাইকমিশনের কূটনৈতিক শাখা দ্বিপাক্ষিক, অর্থনৈতিক, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সাংস্কৃতিক ও জনকূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫৫০টিরও বেশি সমন্বিত সম্পৃক্ততা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
হাইকমিশন মনে করে, একটি দূতাবাস বা হাইকমিশনের দায়িত্ব শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, তাঁদের কথা শোনা এবং তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করাও কূটনৈতিক মিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রবাসীসেবা ও কনস্যুলার কার্যক্রম
গত ১৮০ দিনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার, শ্রম ও কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে ৪৬ হাজারেরও বেশি নথিভুক্ত সেবা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে কনস্যুলার উইংয়ের মাধ্যমে ৩৪ হাজার ৪৩০টি এবং শ্রম ও কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে ১১ হাজার ৮৩৩টি সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
কনস্যুলার সেবার মধ্যে পাসপোর্ট আবেদন ও বায়োমেট্রিক গ্রহণ, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সংশোধন, জরুরি কনস্যুলার সহায়তা, ভিসা ও বিভিন্ন নথি সত্যায়ন, অভিযোগ ও সমস্যা সমাধান, বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ সময়ে ৩ হাজার ৮৮৪টি পাসপোর্ট আবেদন ও বায়োমেট্রিক কার্যক্রম, সমসংখ্যক সার্ভার আপলোড, প্রায় ৩ হাজার ৫৯৪টি নতুন পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ, ১৭৫টি হারানো পাসপোর্টের বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ, ৩৩৩টি ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন এবং প্রবাসীদের সঙ্গে হাজার হাজার ফোন ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়েছে। বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শ্রম ও কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের অভিযোগ, শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা, ভিসা ও নথি সত্যায়ন, হাসপাতাল, কর্মস্থল, কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন, স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য আউটপাস প্রদান এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ৪২৫টি স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের আউটপাস, ১৫৫টি ডিটেনশন আউটপাস, ১৯২টি ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড (WEWB) কার্ড এবং ৯৯৪টি ভিসা সত্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন মৃত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দেশে প্রেরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিটি অভিযোগ ও সমস্যাকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। সব সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে।’
প্রবাসীদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া
প্রবাসীদের সেবা আরও সহজলভ্য করতে হাইকমিশন মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপ ও প্রশাসনিক এলাকায় যোগাযোগ ও সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের সবসময় রাজধানী মালে এসে সেবা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর পাশাপাশি সরাসরি তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশা জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
গত ১৮০ দিনে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স, পরিবেশ ও জলবায়ু, নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, প্রতিরক্ষা ও জনকূটনীতিসহ ১৫টিরও বেশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ সময়ে ৭০টিরও বেশি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সম্পৃক্ততা, ৩০টিরও বেশি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং ৫০টিরও বেশি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত ও নীতিগত সম্পৃক্ততা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি মালদ্বীপ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ১০০টিরও বেশি কার্যকরী পর্যায়ের যোগাযোগ হয়েছে।
শিক্ষা ও জ্ঞান কূটনীতিতে অগ্রগতি
শিক্ষা ও জ্ঞান কূটনীতিকে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ৮০ জন মালদ্বীপের শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণে সহায়তা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা, সমঝোতা স্মারক (MOU), বৃত্তি, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের পুলিশ ও অন্যান্য পেশাজীবীদের বাংলাদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
শিক্ষা ও জ্ঞান কূটনীতি বিষয়ে ২৫টিরও বেশি সম্পৃক্ততা এবং একাডেমিক, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১০টিরও বেশি যোগাযোগ পরিচালিত হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি কূটনীতি
মালদ্বীপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।
বিশেষ করে চিকিৎসক, নার্স, থেরাপিস্ট, শিক্ষক, প্রকৌশলীসহ দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র অনুসন্ধান করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময়ে প্রায় ১০০ জনের বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সম্ভাব্য নিয়োগের সুযোগ, ২০০ থেকে ৩০০ বা তার বেশি বাংলাদেশি শিক্ষকের সম্ভাব্য নিয়োগের সুযোগ এবং প্রায় ১০ হাজার সাধারণ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মালদ্বীপ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ৫ হাজারেরও বেশি সম্ভাব্য সুযোগ এবং ১০টিরও বেশি নতুন শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান খাত চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩০টিরও বেশি নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক নিয়োগ বিষয়ে যোগাযোগ এবং ২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন, কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন প্রদানের সম্ভাবনা নিয়েও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
রেমিট্যান্স ও আর্থিক কূটনীতি
মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং প্রবাসীদের জন্য আনুষ্ঠানিক ও সহজলভ্য রেমিট্যান্স চ্যানেল সম্প্রসারণ হাইকমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৩৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা) এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ছিল প্রায় ১৪ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৭৩৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা)।
রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি করতে মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Maldives Monetary Authority—MMA), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মালদ্বীপে কার্যরত বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হয়েছে। বিদ্যমান ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স চ্যানেল সম্প্রসারণ, প্রবাসীদের জন্য সহজতর আর্থিক সেবা এবং বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও আর্থিক সংযোগ জোরদারে ৩০টিরও বেশি অর্থনৈতিক ও আর্থিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা, মালদ্বীপ মুদ্রা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পাঁচটিরও বেশি আর্থিক পরামর্শ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পাঁচটিরও বেশি যোগাযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ছাড়া মালদ্বীপে কার্যরত ১০টিরও বেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং বিদ্যমান ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রেমিট্যান্স সুবিধা সম্প্রসারণে ১০টিরও বেশি ব্যাংকের সঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মালদ্বীপে একটি বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে। পাশাপাশি ২০টিরও বেশি নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রায় বেতন প্রদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ
অর্থনৈতিক কূটনীতির আওতায় ২০টিরও বেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়তামূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ী ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে ৩০টিরও বেশি সম্পৃক্ততা হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ১০টিরও বেশি নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক ও নৌপরিবহন যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। বিমান যোগাযোগ ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও ১৫টিরও বেশি সম্পৃক্ততা হয়েছে। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থান ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও নীল অর্থনীতি
স্বাস্থ্য কূটনীতিতে ১৫টিরও বেশি সম্পৃক্ততা এবং কৃষি, মৎস্য ও নীল অর্থনীতিতে পাঁচটিরও বেশি সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
জলবায়ু ও পরিবেশ কূটনীতিতে ১০টিরও বেশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। মালদ্বীপের বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার আওতায় প্রায় ২০ হাজার চারা ও বীজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দুই দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক প্রতিবেশ সংরক্ষণ, নীল অর্থনীতি এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ অনুসন্ধান করছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কূটনীতি
প্রতিরক্ষা কূটনীতিতেও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, পেশাগত ও একাডেমিক বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবে এমন ১৯ জন মালদ্বীপের পুলিশ কর্মকর্তা দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।
বহুপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা
প্রথম ১৮০ দিনে হাইকমিশন ২৫টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ৩০টিরও বেশি উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা পরিচালনা করেছে।
এ ছাড়া আবাসিক ও অনাবাসিক কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে ১০০টিরও বেশি যোগাযোগ, ৩০টিরও বেশি কূটনৈতিক নেটওয়ার্কিং ও সংলাপ কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রার্থিতার পক্ষে ১০টিরও বেশি কূটনৈতিক যোগাযোগ পরিচালিত হয়েছে।
সংস্কৃতি, জনকূটনীতি ও সফট পাওয়ার
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উপস্থিতি ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হাইকমিশন ৩০টিরও বেশি জনকূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক-সম্পর্কিত কার্যক্রম, ১৫টিরও বেশি সাংস্কৃতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও আলোকচিত্র প্রচারে ১০টিরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া সফট পাওয়ার ও জনকূটনীতিতে ২০টিরও বেশি সম্পৃক্ততা, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ১৫টিরও বেশি উদ্যোগ, গণমাধ্যম ও কৌশলগত যোগাযোগে ২০টিরও বেশি সম্পৃক্ততা এবং বাংলাদেশের জাতীয় ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ডিংয়ে ৩০টিরও বেশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে মানবিক যোগাযোগকে আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোবদ্ধ করার লক্ষ্যে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার জন্য দুটি বা তার বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০টিরও বেশি উচ্চপর্যায়ের ও সরকারি সফর সহজতর করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয়, জাতীয় দিবস ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে ৩০টিরও বেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সেতু। তাঁদের অবদান শুধু অর্থনৈতিক নয়; দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা ও বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’
এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আজকের সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য—‘সেবা | সম্পৃক্ততা | সংলাপ—আপনার কথা, আগামীর পথ!’—নির্ধারণ করা হয়েছে।
মানবিক সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সহায়তা
প্রবাসী কল্যাণ-সংক্রান্ত বিষয়ে ৫০টিরও বেশি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সমন্বয় এবং মানবিক সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে ১০০টিরও বেশি ঘটনা বা ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সমন্বয় করা হয়েছে। বিভিন্ন দ্বীপ ও প্রশাসনিক এলাকায় ১০টিরও বেশি সরকারি ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততা পরিচালিত হয়েছে।
এর মাধ্যমে মালদ্বীপের রাজধানীর বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সেবার আওতায় আনা, তাঁদের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সামনে অগ্রাধিকার
আগামী দিনগুলোতে প্রবাসীদের কল্যাণ ও সেবা আরও উন্নত করা, দ্বীপভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, আনুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স চ্যানেল সম্প্রসারণ এবং দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হাইকমিশনের অগ্রাধিকার থাকবে।
একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু, নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, প্রতিরক্ষা ও জনকূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সদ্য সংবাদ/ এআর