নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তনের প্রায় ১৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নামফলকে এখনো রয়ে গেছে আগের নাম। একইসঙ্গে অফিস সময়ের বাইরে গেস্ট রুম তালাবদ্ধ রাখার অভিযোগও তুলেছেন হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’ করা হয়। তবে সরেজমিনে হলের লাইব্রেরি কক্ষের নামফলকে এখনো ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’ লেখা দেখা গেছে।
নাম পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময়েও ফলকটি সংশোধন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী। তাদের মতে, প্রশাসনিকভাবে হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নামফলকসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো হালনাগাদ না করায় সিদ্ধান্তটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলটির এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে হলের নাম পরিবর্তিত হলেও লাইব্রেরির ফলকে পুরোনো নাম রয়ে গেছে। পাশাপাশি অফিস সময়ের পর গেস্ট রুম বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে আসা অভিভাবক ও স্বজনদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।
গেস্ট রুম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, অফিস সময় শেষ হওয়ার পর কক্ষটিতে তালা দেওয়া হয়। ফলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন কিংবা অন্য অতিথিদের বসার জায়গা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কক্ষটি ব্যবহারের সুযোগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাদের।
তবে গেস্ট রুম নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন হলের প্রভোস্ট ফাতিমাতুয যোহরা। লাইব্রেরির নামফলকের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তার নজরে আসেনি এবং কোনো শিক্ষার্থীও তাকে এ বিষয়ে জানাননি।
গেস্ট রুম সম্পর্কে প্রভোস্ট জানান, হলে সার্বক্ষণিক একজন আয়া দায়িত্বে থাকেন এবং তার কাছেই গেস্ট রুমের চাবি থাকে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী কক্ষটি খুলে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাইব্রেরিসহ সংশ্লিষ্ট সব নামফলক দ্রুত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি গেস্ট রুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও অতিথিদের অযথা ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস