কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া আগের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদাবনতি হওয়া ইংরেজি বিভাগের মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে তাদের আগের পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একই সভায় ছাত্রীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম আনিছুল ইসলামের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদারকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। আর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে সহকারী অধ্যাপক পদে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও আগামী দুই বছর তার পদোন্নতি বন্ধ রাখার আগের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এবং জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ১১০তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির বিষয়টি পর্যালোচনার পর ১১১তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের আগের পদে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কাজী এম আনিছুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের মার্চে এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তদন্ত চলাকালে কাজী এম আনিছুল ইসলামকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রেখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে তিনি একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, আলী রেজওয়ান তালুকদার ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে আলী রেজওয়ানকে সতর্ক করা হয়েছে এবং জসিম উদ্দিনের দুই বছরের পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
কাজী আনিছুল ইসলামের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এখনো চলমান। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপাচার্যের ভাষ্য, কাউকে ছয় মাসের বেশি বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা যায় না। কিন্তু কাজী আনিছুল ইসলাম প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। আগের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখা হয়েছিল। যেহেতু তদন্ত প্রতিবেদন এরই মধ্যে পাওয়া গেছে, তাই তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস