কর্মীদের হাতে চকলেট তুলে দিয়ে ছোট্ট একটি প্র্যাঙ্ক করার পরিকল্পনা করেছিলেন দুবাইয়ের ব্যবসায়ী হাসিনা নিশাদ। তবে প্যাকেট খুলতেই কারও হাতে উঠে আসে নতুন আইফোন ১৮, আবার কারও হাতে পাওয়া যায় বড় চকলেট বার। পরে চকলেট পাওয়া কর্মীদেরও দেওয়া হয় নতুন আইফোন। সেরা কর্মীদের ধরে রাখার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ব্যবসায়ী জানান, কর্মীদের আনন্দে রাখা এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখাকে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নীতির অংশ হিসেবে দেখেন তারা।
ওয়ার্ল্ড স্টার হোল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনা নিশাদ খালিজ টাইমসকে বলেন, ‘কর্মীরাই আমাদের শক্তি। তাদের ছাড়া আমাদের কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। তাই প্রথম দিন থেকেই কর্মীদের পেছনে ব্যয় করাকে আমার স্বামী ও আমি অগ্রাধিকার দিয়ে আসছি।’
স্বামী নিশাদ হুসাইনের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হাসিনা। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিশাদ হুসাইন জনবল সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কয়েকজন কর্মীর হাতে প্যাকেট তুলে দেওয়ার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্যাকেটগুলোর অর্ধেকের মধ্যে রাখা হয়েছিল নতুন আইফোন ১৮, আর বাকি প্যাকেটগুলোতে ছিল বড় চকলেট বার।
কর্মীরা প্যাকেট খুলে নিজেদের উপহার দেখার পর সেখানে আসেন হাসিনা। চকলেট পাওয়া কর্মীদের প্রত্যেকের হাতেও পরে তুলে দেওয়া হয় নতুন আইফোন।
হাসিনা জানান, প্রতিষ্ঠানের সেরা পারফর্ম করা ১২ কর্মীকে উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন। তার ভাষায়, চকলেট ছিল কর্মীদের সঙ্গে করা ছোট্ট একটি প্র্যাঙ্ক। তবে যারা চকলেট পেয়েছিলেন, তাদের কাউকে হতাশ মনে হয়নি। বরং সবাই হাসিমুখে নিজেদের উপহার গ্রহণ করেন। পরে আইফোন পাওয়ার সময় তাদের আনন্দ ছিল আরও বেশি।
কর্মীদের উৎসাহিত করতে হাসিনা ও নিশাদের পক্ষ থেকে এমন আয়োজন এবারই প্রথম নয়। গত বছরও প্রতিষ্ঠানের সেরা পারফর্ম করা কর্মীদের আইফোন উপহার দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১৬ কর্মীর জন্য বিশেষ আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি চালকসহ বিলাসবহুল গাড়িতে ভ্রমণ এবং ইয়টে পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে কর্মীদের জন্য বিশেষ সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
হাসিনার দাবি, কর্মীদের স্বীকৃতি ও বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের খুব কমসংখ্যকই চাকরি ছেড়ে যান। এমন অনেক কর্মী রয়েছেন, যারা প্রতিষ্ঠান শুরুর সময় থেকেই তাদের সঙ্গে আছেন। তাদের অধিকাংশেরই কাজের অভিজ্ঞতা পাঁচ বছরের বেশি।
শুধু পুরস্কার বা উপহার নয়, কর্মীদের মনোবল বাড়াতে খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের ওপরও গুরুত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটি। হাসিনা জানান, পুরো কোম্পানিকে চারটি দলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি বছর আয়োজন করা হয় প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া দিবস। পাশাপাশি প্রতি মাসে কর্মীদের খেলাধুলার অনুশীলনের জন্য আলাদা বাজেট রাখা হয়। এতে কর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তারা শারীরিকভাবেও সক্রিয় থাকেন।
২০০৮ সালে স্বামী নিশাদ হুসাইনের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন হাসিনা। শুরুর দিকে শুধু তারা দুজনই ছিলেন। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি বড় হয়েছে এবং পুরো যাত্রায় কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
হাসিনা বলেন, কর্মীদের যথাযথ যত্ন নিলে প্রতিষ্ঠানও স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে যাবে—এ বিশ্বাস থেকেই শুরু থেকে কর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তারা।
সদ্য সংবাদ/ এআর