ভোররাতের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কাবুল
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকার কয়েকটি স্থানে পাকিস্তান বোমা হামলা চালিয়েছে। তবে তার দাবি, এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কাবুলে অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে যুদ্ধবিমানের শব্দের পরপরই একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। রাত আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়।
দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমান্তে আফগান তালেবানের হামলায় তাদের দুই সৈন্য নিহত হওয়ার পরই ‘পাল্টা হামলা’ চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, আফগানিস্তানে তালেবানের প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো অভিযানে ১৩৩ জন তালেবান সদস্য নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের পাল্টা হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের হতাহতের এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা প্রশমনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্টে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
একই সুরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর জবাব ছিল ‘সর্বাত্মক ও দৃঢ়’।
এদিকে সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই পাকিস্তানের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আফগানরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট
গত ২২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের ভেতরে একাধিক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, সীমান্তের কাছে সাতটি জঙ্গি আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়, যা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার জবাব।
কাবুলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ওই হামলায় বেসামরিক বাড়ি ও একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নারী-শিশুসহ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সীমান্তজুড়ে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল। সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি হামলা সেই উত্তেজনাকেই নতুন করে উসকে দিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।