ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সৌদি আরবের বিমান হামলা বাড়ার দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন স্থানে সৌদি যুদ্ধবিমান ২৬টি অভিযান চালিয়েছে। একই সঙ্গে গত এক সপ্তাহে হামলার সংখ্যা প্রায় ৩০০- তে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব বিমান হামলা চালানো হয়। হুথিদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অবস্থান।
হুথিদের দাবি অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০০টি সৌদি বিমান হামলা হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সংখ্যার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বরও হুথিরা দাবি করেছিল, পশ্চিম ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবিও করেছিল তারা।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। এ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলেও যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি স্বাধীন কোনো সূত্রে নিশ্চিত হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ আবারও তীব্র হয়েছে। চলমান লড়াইয়ের মধ্যে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। এর ফলে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরেও নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রণালিটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংযোগ হিসেবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে হুথিদের হামলার জবাবে সৌদি আরবও সামরিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রাখার অবস্থান জানিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে।
সংঘাতের বিস্তার লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সামুদ্রিক পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে অস্থিতিশীলতা বাড়লে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে