বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এক প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি এবং একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতি এবারের অধিবেশনে দেশের অংশগ্রহণকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন তিনি। সফর শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভাষণে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার পাওয়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম রোহিঙ্গা সংকট। মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরার কথা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নের পাশাপাশি দেশে পরিবেশ সংরক্ষণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মতো কার্যক্রমের বিষয় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ জোর দেবে। এ লক্ষ্যে গ্রান্টভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগগুলোও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জলবায়ু ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
সফরসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে। সব মিলিয়ে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জলবায়ু সংকট, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে সরকার।
সদ্য সংবাদ/এসকে