প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটিকে আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রাঙামাটিকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পর্যটন খাত সম্প্রসারিত হলে হোটেল, হোমস্টে, স্থানীয় খাবার, পরিবহন ও সেবাখাতের ব্যবসা বাড়বে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
গত ১৮ মাসের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাঙামাটির পর্যটন খাতকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ সময় পর্যটন করপোরেশনের ঝুলন্ত সেতু এলাকায় ওয়াকওয়ে ও সিঁড়ি নির্মাণ, আধুনিক ওয়াশরুম স্থাপন, ফিশারি ঘাটে যাত্রী ছাউনি ও স্যানিটেশন সুবিধাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে পর্যটকদের চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ভিউ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকে কাপ্তাই লেক ও আশপাশের মনোরম পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ইতোমধ্যে এটি পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সাজেক ভ্যালির অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কেও তিনি বলেন, সেখানে পার্কিং সুবিধা, সিঁড়ি ও রাস্তা নির্মাণের ফলে দুর্গম পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে। এতে পরিবার ও বয়স্ক পর্যটকদের ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়েছে।
পর্যটন শিল্পের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট “ট্যুর গাইড অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়। মো. হাবীব আজমের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহল ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, আধুনিক ও মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ ট্যুর গাইড তৈরির বিকল্প নেই। এ প্রশিক্ষণ তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটকদের মানসম্মত সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মো. হাবীব আজম বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাঙামাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।