আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। নেত্রকোনা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মদন থানার এসআই মো. আক্তারুজ্জামান জানান, গত ১০ মে আসামির তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সে সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধ প্রমাণের স্বার্থে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১৬ মে আসামিকে ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) নিয়ে যাওয়া হয় এবং ১৭ মে পরীক্ষার জন্য ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, 'ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের আমান উল্লাহ সাগর (যিনি স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক) ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিশুটি মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে আসেন। মায়ের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি ধর্ষণের বিষয়টি খোলে বলে। পরবর্তীতে উপজেলা সদরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হলে জানা যায়, ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এই ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে আসামি করে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।
গত ৬ মে ভোররাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাব-১৪ এর একটি দল মূল অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিন সন্ধ্যায়ই নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামি (সাগরের ভাই) আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
বর্তমানে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার মা আদালতের কাছে আইনি সুরক্ষার আবেদন জানান। মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ মে বিকেলে বিচারকের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ হোম) পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন ও নিরাপদ হেফাজতে রয়েছে।