মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীতে এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি ও মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. লোকমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে র্যাবের সহায়তায় টংগীবাড়ী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত লোকমান হোসেন (২৬) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর শশীভূষণ এলাকার আনোয়ার শেখের ছেলে। তিনি টংগীবাড়ী উপজেলার খিলপাড়া সুন্নাতুল মদিনা মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে শিক্ষক লোকমান হোসেন মাদ্রাসার এক ছাত্রকে ফুসলিয়ে সোনারং এলাকার আরশাদ ঢালীর একটি অনাবাদি জমিতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি ওই ছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করেন। ছাত্রটি বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন লোকমান। একপর্যায়ে তিনি নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ছাত্রটির গলায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালান।
এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে লোকমান হোসেন সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত ছাত্রটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় গত ১১ জুন রাত ১০টা ১০ মিনিটে টংগীবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং টংগীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
অবশেষে ঘটনার ১১ দিন পর সোমবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে র্যাবের সহায়তায় পলাতক আসামি মো. লোকমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টংগীবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম/সদ্য সংবাদ