বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য বিকৃত ও অসত্যভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ এনে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে দলটির মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা।
সোমবার (২২ জুন) জেলা জামায়াতের আমীর আ. জ. ম. রুহুল কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ জুন মুন্সীগঞ্জ জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠান চলাকালে সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জেলার ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “আমার বিশ্বাস এ জেলায় কোনো চাঁদাবাজি হয় না।”
তবে এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীজনেরা তার বক্তব্যের জবাবে জানান, “এখানেও চাঁদাবাজি হয়।”
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সুধীজন, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অতিথিসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। আমীরে জামায়াত তার বক্তব্যের কোনো পর্যায়েই মুন্সীগঞ্জবাসীকে অসম্মান করে কোনো মন্তব্য বা ইঙ্গিত করেননি বলে দাবি করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, তার গঠনমূলক ও ইতিবাচক বক্তব্য দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে এবং তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন গত ২০ জুন জেলার একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে এবং পরদিন ২১ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে আমীরে জামায়াতের বক্তব্যকে বিকৃত ও অসত্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও দাবি করা হয়, বাজেট অধিবেশনে অসত্য তথ্য উপস্থাপনের একপর্যায়ে স্পিকার উক্ত বক্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অনর্থক বিতর্ক কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সকলের প্রতি সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চা করার আহ্বান জানান তারা।