ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে সালিস বৈঠকে হবি মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া নারুই ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের মৃত রহমত মিয়ার ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সালিস বৈঠকে হবি মিয়াকে উপস্থিত জনতার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পরে তার চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে এবং হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে বসিয়ে হাত-পা একসঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে তার পায়ের তালুতে আঘাত করতে দেখা যায়। পরে মাদক বিক্রি ও সেবন করবেন না—এমন শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, নারুই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদক বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে। এ কারণেই স্থানীয়ভাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। কাউকে নিজ উদ্যোগে শাস্তি দেওয়া বা নির্যাতন করা আইনসম্মত নয়।
নবীনগর থানার শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর নবী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। এছাড়া হবি মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদেরও বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, “হবি মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের সালিস বৈঠকের মাধ্যমে কাউকে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”