কুড়িগ্রামে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে জামান হোটেল মিলনায়তনে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হেল্পলাইন নম্বর ১০৯, ৯৯৯ এবং ১০৯৮-এর প্রচার ও ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হবে, যাতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত আইনি সহায়তা পেতে পারেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্যানুযায়ী, দেশে ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার নির্যাতনের শিকার হন। ৪৯ শতাংশ নারী শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার সম্মুখীন হন। প্রতি তিনজন বিবাহিত নারীর মধ্যে একজন জীবনে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এছাড়া ৬৪ শতাংশ নারী সহিংসতার ঘটনা কাউকে জানান না, ৭.২ শতাংশ গর্ভবতী নারী শারীরিক সহিংসতার শিকার হন এবং ৫০ শতাংশ নারী জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হয়।
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে বাল্যবিয়ে বন্ধ, মাদক নির্মূল, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক মাঠ পর্যায়ের সমাবেশ আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।
জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মহসীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অ্যাডভোকেসি ডায়ালগে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ ফাহিদ হাসান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জয়ন্তী রাণী, সদর মৎস্য কর্মকর্তা ইসমত আরা, সদর সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নারী নেতৃত্ব, কাজী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।