মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্যারিসে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ৮৭ বছর বয়সী এই সাবেক সম্রাজ্ঞী ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্যারিসে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর সাম্প্রতিক মৃত্যুকে ‘ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ’ উল্লেখ করলেও ফারাহ পাহলভি বলেন, 'শুধু একজন নেতার মৃত্যুতে পুরো ব্যবস্থার পতন ঘটে না। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা একজন ব্যক্তির বিদায় মানেই একটি শাসনব্যবস্থার অবসান নয়।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'ইরানে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সার্বভৌম পরিবর্তন আনতে হলে জনগণের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। বিশ্বকে স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের মৌলিক অধিকার—নিজেদের নেতা নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার—সমর্থন করতে হবে।'
ইরানের চলমান অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দেশটির কর্মকর্তাদের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং রক্তপাত এড়াতে সতর্ক করেন। গত জানুয়ারি থেকে তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'এইচআরএএনএ' জানিয়েছে, দমন-পীড়নে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এদিকে ফারাহ পাহলভির পুত্র ও ইরানের সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভি বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে নির্বাসনে থাকা পাহলভি পরিবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় রয়েছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরে তাদের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এখনো মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, এএফপি