জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, 'ভূমিকম্পের সময় আমি হলের ৯ তলায় ছিলাম। হঠাৎ পুরো ভবন প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে প্রচণ্ডভাবে দুলতে থাকে। সেই মুহূর্তে রুমের ভেতরের আসবাব কেঁপে উঠতে থাকে, দরজা-জানালা কাঁপতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়। নিচে নেমে আসার পর সবার মুখেই ভয়, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার ছাপ। কেউ মোবাইলে পরিবারকে ফোন দিচ্ছিল, কেউ আবার বন্ধুদের খুঁজছিল। পরে ভবনের দেয়াল, সিঁড়ি এবং কয়েকটি করিডোরে ফাটল দেখা যায়, যা আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে। এ ধরনের একটি বড় বিপর্যয় আমাদের খুব কাছে দিয়েই চলে গেল।'
সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, নতুন হলের করিডরসহ ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটলের দৃশ্য। নতুন হলগুলোর এই ক্ষতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে বিগত প্রশাসনের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছিল। নির্মাণের পাঁচ বছরও না যেতেই ১০ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ৬ টি হল ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন 'আজকের ভয়াবহ ভূমিকম্পে জাবির তাজউদ্দীন হল ও কাজী নজরুল হলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে। আশ্চর্যের বিষয়, দীর্ঘদিন আগে নির্মিত পুরনো হলগুলোতে আজকের ভূমিকম্পে এখনো পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ফাটল পাওয়া যায়নি।'
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তিন বছর আগে নির্মিত নতুন হলগুলোতে শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজের অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতিতে তারা নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় আছেন।
অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, সব আবাসিক ভবনের গাঠনিক শক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা।
সদ্য সংবাদ/সিয়াম শাহরিয়ার সামি