‘আমাদের আইভী বাড়ি ফিরেছে। তাকে একনজর দেখার ইচ্ছা তো থাকবেই। তাই এসেছি। কিন্তু গেটে গিয়ে শুনলাম, এখন দেখা করা যাবে না। দুই দিন পর সবার সঙ্গে দেখা করবেন।’—এভাবেই অনুভূতির কথা জানালেন নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা মোসাদ্দেকা বেগম।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
মোসাদ্দেকা বেগমের মতো দেওভোগ এলাকার আরও অনেক নারী বাসিন্দা জামিনে মুক্তি পাওয়া আইভীকে দেখতে বাড়ির সামনে ভিড় করছেন। তাঁদের অনেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ব্যক্তি হিসেবে আইভীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁরা সেখানে যাচ্ছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে আপাতত কাউকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
প্রায় এক বছর কারাভোগের পর বুধবার রাতে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ বাসভবনে ফেরেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত তিনি শুধু আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।
পরিবারের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের আপাতত বাসায় না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিন বাসভবনের ভেতরে তোলা একটি ছবিতে আইভীকে তাঁর ভগ্নিপতি এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদিরসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
আইভীর ভাই আলী রেজা উজ্জ্বল জানান, দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি বা সাক্ষাতের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে আইভীর বাসভবনের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে পুলিশ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। নিরাপত্তা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই সেখানে যেতে দ্বিধায় পড়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রতিনিধি এলাকা ছেড়ে গেলেও তিনি নিজ বাসভবনেই অবস্থান করেন। এমনকি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে অপসারণের আগ পর্যন্ত নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। পরে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে দেওভোগের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।