গুম, খুন ও গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ বলেন, “আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ এখনো যথেষ্ট দৃশ্যমান ও কার্যকর নয়।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বিচার না হওয়ায় পতিত স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নাশকতা প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতা এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক মিছিল, সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এসব তৎপরতা দমনে সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় দেখা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে সংঘটিত গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং চব্বিশের জুলাইয়ের গণহত্যার মতো গুরুতর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তি এখনো বিচারের মুখোমুখি হয়নি। কেউ কেউ এখনো পলাতক, আবার কেউ আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁক গলে জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে এসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।”
হুঁশিয়ারি দিয়ে জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় দেশের ছাত্রসমাজ প্রস্তুত রয়েছে। তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”