মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টার পর পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (ইউনিট-১) এ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ও দেশীয় প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির পর এ ধাপটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, 'প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। আগামী জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে এ ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে ইউনিট-১ থেকে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।'
পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ মেগাপ্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণে সক্ষম হবে।
এর আগে সকালে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে হেলিকপ্টারে রূপপুরে গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ বাংলাদেশ ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।