প্রিপেইড মিটারে ক্ষোভ ফতুল্লাবাসীর

প্রিপেইড মিটারে ক্ষোভ ফতুল্লাবাসীর

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৫

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ এককথায় জানিয়ে দিয়েছেন"ফতুল্লাবাসী প্রিপেইড মিটার চায় না"। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এই ব্যবস্থা শুধু বাড়তি ঝামেলা নয়, বরং জীবনের ওপর নতুন এক বোঝা হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও আশঙ্কা ফতুল্লার বিভিন্ন মহল্লায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রিপেইড মিটার বসানো হবে এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এ ধরনের মিটার বসানো হলে, অতিরিক্ত খরচ বাড়বে: প্রতিটি রিচার্জের সঙ্গে ৫% ভ্যাট এবং সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এতে প্রকৃত বিদ্যুৎ খরচের পাশাপাশি ভোক্তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হবে। অগ্রিম টাকা ছাড়া বিদ্যুৎ নয়: হাতে টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ থাকবে না। অনেক পরিবারেই মাস শেষ হওয়ার আগেই হাতে টাকা থাকে না, ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।রিচার্জ কেন্দ্র সীমিত: প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে গ্রাহকরা হরহামেশা ভোগান্তিতে পড়বেন।নিম্নআয়ের মানুষের চাপ বাড়বে: দিনমজুর, শ্রমিক ও ছোট দোকানদারদের জন্য প্রতিদিন বা সাপ্তাহিক রিচার্জ একটি বাড়তি ঝামেলা।পূর্ব অভিজ্ঞতা নেতিবাচক: আশপাশের কিছু এলাকায় প্রিপেইড মিটার চালু করা হলেও সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগমিটার দ্রুত টাকা খেয়ে ফেলে, অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহার আগের চেয়ে তেমন বাড়ে না।

ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার শ্রমিক রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা কারখানায় কাজ করি, প্রতিদিনের আয়ে সংসার চলে। প্রিপেইড মিটার হলে অগ্রিম টাকা না দিলে বিদ্যুৎ পাব না। এটা আমাদের জন্য নতুন বিপদ।

অন্যদিকে মাসদাইর এলাকার গৃহবধূ শিউলি বেগম বলেন, এখনও মাস শেষে বিল দিলে কষ্টে হলেও চালানো যায়। কিন্তু প্রতিদিন-প্রতি সপ্তাহে রিচার্জ করলে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হবে। আমরা চাই সাধারণ মিটারই থাকুক।"

ফতুল্লার ছোট ব্যবসায়ীরাও প্রিপেইড মিটার নিয়ে আতঙ্কে আছেন। এক মিষ্টির দোকান মালিক বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজে রাখা জিনিস নষ্ট হয়ে যায়। প্রিপেইড মিটারে যদি টাকার অভাবে সংযোগ কেটে যায়, তাহলে ব্যবসার বড় ক্ষতি হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের সাশ্রয়ী করবে,এতে বিদ্যুৎ চুরি কমবে, ভোক্তারা নিজেদের ব্যবহার নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন,বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়বে না। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি এটা এতই সুবিধাজনক হয়, তবে কেন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করছে না?

ফতুল্লার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ সরকারের নীতিকে সমর্থন জানাচ্ছেন, তবে অনেকে মনে করছেন জনগণের ক্ষোভ উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হলে অচিরেই বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই প্রিপেইড মিটার চালু হয়েছে। সেসব এলাকার অনেক বাসিন্দাই অভিযোগ করেছেন, মিটার দ্রুত টাকা খেয়ে ফেলে, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও মিটারের ইউনিট শেষ হয়ে যায়, প্রায়ই মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়, অথচ দ্রুত সমাধান পাওয়া যায় না, রিচার্জ পয়েন্ট সীমিত হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।

ফতুল্লার সাধারণ মানুষ তাই মনে করছে, এই ব্যবস্থা চালু হলে তারাও একই রকম ভোগান্তির শিকার হবে।

এলাকাবাসী বিভিন্ন মহল্লায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, প্রয়োজনে আন্দোলনে নামবেন। কয়েকটি এলাকাতে মিছিল-মিটিংও হয়েছে। তাদের দাবি, আমরা বিদ্যুৎ চাই, তবে প্রিপেইড মিটার নয়।

একজন ছাত্রনেতা বলেন, ফতুল্লার মানুষ গার্মেন্টস শ্রমিক ও খেটে খাওয়া জনগণ। তাদের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হলে আমরা রাজপথে নামব।

ফতুল্লার জনসংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। এর বড় অংশই শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত। তারা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে প্রিপেইড মিটার চালু হলে, জনসাধারণের ওপর চাপ বাড়বে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, শিল্প এলাকায় উৎপাদন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেকোনো নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে জনগণের মতামত নেওয়া জরুরি। জনগণের সঙ্গে সমন্বয় না করে চাপিয়ে দেওয়া হলে তা থেকে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের খবরেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। "প্রিপেইড মিটার চায় না ফতুল্লাবাসী"—এটাই এখন এলাকাবাসীর মূল দাবি। স্থানীয়দের মতে, তারা বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করতে প্রস্তুত, কিন্তু অগ্রিম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঝামেলা নিতে রাজি নন।

সরকার ও বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত এ দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করা। নইলে অচিরেই ফতুল্লা এলাকায় প্রিপেইড মিটারকে ঘিরে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেযা ভবিষ্যতে বড় সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. শিক্ষা, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, নির্বাচন ৭ ধাপে সদ্য. মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিকের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সদ্য. নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন ইসি মাছউদ সদ্য. দুদকে হাজির হতে সময় চাইলেন সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন সদ্য. আয়-ব্যয়ের হিসাবে গরমিলের অভিযোগ, সাবেক মেয়র নাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন সদ্য. 'দুদক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজ করে না' সদ্য. ডাকসু থেকে নামিয়ে ভেঙে ফেলা হলো জিন্নাহর ছবি সদ্য. ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার মামলার রায় ঘোষণা আগামীকাল সদ্য. সরকারের হারানো অস্ত্রের সন্ধান দিলে মিলবে পুরস্কার সদ্য. শিক্ষা, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির সদ্য. ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, নির্বাচন ৭ ধাপে সদ্য. মঙ্গলবার রাত থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিকের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সদ্য. নভেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন ইসি মাছউদ সদ্য. দুদকে হাজির হতে সময় চাইলেন সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন সদ্য. আয়-ব্যয়ের হিসাবে গরমিলের অভিযোগ, সাবেক মেয়র নাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন সদ্য. 'দুদক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজ করে না' সদ্য. ডাকসু থেকে নামিয়ে ভেঙে ফেলা হলো জিন্নাহর ছবি সদ্য. ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার মামলার রায় ঘোষণা আগামীকাল সদ্য. সরকারের হারানো অস্ত্রের সন্ধান দিলে মিলবে পুরস্কার