অনৈতিক কার্যকলাপ ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পল্লবী থানাধীন ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মফিজুর রহমান মামুনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মফিজুর রহমান মামুনকে নিয়ে অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি ও গণমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় ডিএমপি জানিয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যা, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা ছিল। একই সঙ্গে ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও দুটি সাজা পরোয়ানার তথ্যও জানিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর বাইতুন নুর জামে মসজিদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। সে সময় তাঁকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছিল পুলিশ।
পল্লবী থানার নথি পর্যালোচনার তথ্য উল্লেখ করে সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ সালের ৫ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এ ছাড়া পল্লবী থানায় ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং ১৯৯৬ সালের ৬ এপ্রিলের একটি মামলাতেও সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
গ্রেপ্তারের ৪৫ দিনের মাথায় জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার ভারতে চলে যান এমন তথ্যও সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এর আগে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মামুনকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত হিসেবে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে ২০০২ সালে তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পান বলে ওইসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর ২০০৪ সালে তিনি ভারতে চলে যান বলেও উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ভারতীয় পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও নেপালে যাতায়াতের তথ্য প্রকাশিত হয়। পরে পরিচয়সংক্রান্ত বিষয় ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁকে ভারতীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি নেপালে যান এবং সেখানে ধানমন্ডি-হাজারীবাগ এলাকার পলাতক সন্ত্রাসী লেদার লিটনের সঙ্গে আশ্রয় নেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।
ওই সময়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেদার লিটনের পরামর্শে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মিশন নিয়ে মামুন ঢাকায় ফেরেন। পরে ফেব্রুয়ারিতে পল্লবী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এসব পুরোনো তথ্য সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে এসেছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর