চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মো. হাসানকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে কয়েকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও নবজাতক হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ওষুধ কিনতে নিচে নেমেছিলেন তিনি। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা তিনটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের পার্কভিউ হাসপাতাল থেকে হাসানকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পরে ওই দিন রাতে তাঁকে হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান প্রসবের জন্য সোমবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন তাঁর স্ত্রী। সন্তান জন্মের পর নবজাতককে হাসপাতালের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হাসানের স্ত্রীকে ভর্তি করা হয় সিসিইউতে। এ অবস্থায় ওষুধ কেনার জন্য হাসপাতালের নিচে নামেন হাসান। তখন ডিবির পরিচয় দেওয়া কয়েকজন তাঁকে ধরে নিয়ে যান বলে পরিবারের দাবি। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সুযোগও দেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে হাসানকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
হাসানের আত্মীয় আবুল কালাম বলেন, তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। বিষয়টি জানার পর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেন। প্রথম দিকে কেউ হাসানকে আটকের কথা স্বীকার করেনি। পরে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁকে হাটহাজারী থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পার্কভিউ হাসপাতালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হুমায়ুন কবীর বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ওই ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা ডিবির পরিচয়পত্র দেখান। হাসানকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না।
তিনি জানান, হাসানের স্ত্রী সোমবার সকালে সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে হাসানকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা তিনটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র: কালবেলা
সদ্য সংবাদ/ এআর