নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রী শ্রী বাবা পাগলনাথ জিউর ও রামসীতা মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তিতে কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন ছাড়া দোকান ও স্থাপনা নির্মাণ করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশসংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এর আগে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ, আদালতের আদেশ অনুযায়ী উভয় পক্ষের কেউ সেখানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করতে পারবেন না।
তবে ওই আদেশ উপেক্ষা করে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর স্থাপনা নির্মাণের জন্য ছাদের ওপর রড দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আরও এক-দুই দিন কাজ চললে ছাদ ঢালাই করা হতে পারে। ঢালাইয়ের আগে যে প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়, সেগুলো রাতের আঁধারে করা হচ্ছে।
স্থাপনার ওপর আদালতের আদেশসংবলিত একটি পোস্টার লাগানো হয়েছিল। তবে সরেজমিনে গিয়ে সেটি আর দেখা যায়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাসের লোকজন পোস্টারটি ছিঁড়ে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘পাগলনাথ জিউর ও রামসীতা মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদ দীর্ঘদিনের। আমি এই ঝামেলা নিয়ে কয়েকবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আদালতের আদেশ রয়েছে, দুই পক্ষের কেউ কাজ করতে পারবে না। তবে আমি শুনেছি, একটি পক্ষ চুপিসারে কাজ করে। আমরা যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে কাউকে পাইনি।’
ওসি আরও বলেন, ‘আমাদের তো ২৪ ঘণ্টা সেখানে বসে থাকা সম্ভব নয়। যে পক্ষ চুপিসারে নির্মাণকাজ চালায়, তার বিপক্ষের লোকজন যদি আমাদের অবহিত করে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। ফোর্স পাঠাব।’
অভিযোগের বিষয়ে মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাসের সঙ্গে কথা বলতে মন্দিরে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সদ্য সংবাদ/ এআর