আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে সরকারি বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে চলতি বছরই জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশুকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে না। নতুন সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা চলতি বছরই নতুন পাঠ্যবই পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষাদানের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং শিক্ষকদের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে চায় সরকার।
এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পড়াশোনার প্রতি শিশুদের আগ্রহ ধরে রাখতে আনন্দময় ও কার্যকর শিখন পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ শিক্ষক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার তাগিদ দেন তিনি।
শিক্ষকতা যেন কারও কাছে বাধ্যতামূলক বা বিকল্প পেশা হিসেবে বিবেচিত না হয় এমন পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের পছন্দের পেশার তালিকায় শিক্ষকতাকে শীর্ষে আনতে হবে। সে লক্ষ্যেই যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস