খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছেলে জয় ঢালী নিহত হওয়ার এক মাস ২০ দিনের মাথায় গুলিতে প্রাণ গেল তার বাবা আক্তার ঢালীর (৬০)। সোমবার সন্ধ্যায় রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে বসে ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
গুলিতে গুরুতর আহত আক্তার ঢালীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত আক্তার ঢালী দুর্জনীমহল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আইচগাতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী মুরাদ জানান, আক্তার ঢালীর ডান পাশের কাঁধের গোড়ার দিকে গুলির আঘাত রয়েছে। একটি মূল গুলির ক্ষতের পাশাপাশি তার শরীরে ছররা গুলির আঘাতও থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনাস্থলের পরিবর্তে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হওয়ায় শরীরের ঠিক কোথায় গুলি লেগেছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
ওসি বলেন, কী কারণে এবং কারা আক্তার ঢালীকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মাত্র এক মাস ২০ দিন আগে জয় ঢালীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার সঙ্গে আক্তার ঢালীর হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আসছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
সদ্য সংবাদ/ এআর