সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জুবায়েরুল ইসলাম ও রুবেল মিয়া। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পরও চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি তারা। কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দুই তরুণ।
জুবায়েরুল ইসলামের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষার লিখিতসহ প্রয়োজনীয় সব ধাপ সফলভাবে শেষ করে তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়। এরপরও নিয়োগ প্রক্রিয়া আর এগোয়নি।
নিজের বিষয়ে জুবায়েরুল বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতাও নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র কিংবা স্থায়ী ঠিকানা নিয়েও কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
৩১ বছর ছয় মাস বয়সী জুবায়েরুলের পরিবারে তার দুই বড় ভাই শিক্ষকতা করেন। তিনি জানান, এর আগে দুটি সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তবে পরিবারের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছায় সেসব চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা থেকেই এবার নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
নিয়োগ না পাওয়ার কারণ জানতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগের কথা জানিয়ে জুবায়েরুল বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও পুলিশ অফিসসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় ঘুরেও তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর পাননি। এতে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, কাউকে অভিযুক্ত করা তার উদ্দেশ্য নয়। তবে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন, সেটি তাকে পরিষ্কারভাবে জানানো হোক। তার কোনো ভুল বা অযোগ্যতা থাকলে সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন নবীনগরের আরেক প্রার্থী রুবেল মিয়া। তার ভাষ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় ধাপ শেষ করে তিনিও চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর তার নিয়োগও আর সম্পন্ন হয়নি।
রুবেলের দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতেও তিনি নেই। পরিবারের অন্য সদস্যদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এরপরও যাচাই-বাছাই শেষে কেন চাকরি আটকে গেল, তা তার কাছে পরিষ্কার নয়।
৩১ বছর বয়সী রুবেলের বাবা কৃষক। সরকারি চাকরি পেলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে এমন প্রত্যাশা ছিল তার। চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে নিয়োগ না হওয়ায় এখন হতাশায় দিন কাটছে তার।
রুবেল জানান, চাকরি নিশ্চিত হয়েছে ভেবে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে নিয়োগ না হওয়ায় সামাজিকভাবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। মানসিক চাপের কারণে ঘর থেকে বের হতেও অস্বস্তি বোধ করছেন বলে জানান তিনি।
নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন রুবেল।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান বলেন, এবারের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জেলায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর্যায়ে দুজন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। কাগজপত্রের জটিলতা কিংবা মামলা-সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন কারণে এমনটি হতে পারে। তিনি জানান, নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস