ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং বিক্ষোভের ঘটনায় দলের দুই নেতাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পর এ নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নাগপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীপকে বলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানো গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত। তাঁর দাবি, মোদি সরকার দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা লঙ্ঘন এবং অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জন্য দিল্লির তিহার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে তাঁদের আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে অনুমতি ছাড়াই যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে প্রশ্ন তোলেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর মাধ্যমে ওই দুই নেতা ঠিক কী অপরাধ করেছেন?
তিনি বলেন, ‘আমি নরেন্দ্র মোদিকে বলতে চাই, আপনি যদি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে চান, তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবেই করুন।’
দীপকের অভিযোগ, অঘোষিত জরুরি অবস্থা চাপিয়ে দিয়ে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় মানুষকে পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে রাখা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে জরুরি অবস্থা জারির সময়ও এমন ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, ভারতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো যদি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এ কারণে কাউকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মোদি সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা জারি করতে চাইলে তা প্রকাশ্যেই করা উচিত।
এ সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ারও বিরোধিতা করেন দীপকে। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি কিংবা অন্য কেউ এই মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সফল হবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার আন্দোলন প্রসঙ্গেও কথা বলেন ককরোচ জনতা পার্টির এই নেতা। তিনি জানান, তাঁদের দল একটি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করে যাবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী। তাঁর মতে, দুই পক্ষের আন্দোলনের লক্ষ্য একই।
সূত্র: পিটিআই
সদ্য সংবাদ/এসকে