ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। নিরাপত্তাজনিত কারণে সোমবার দেশটির ৪০০ থেকে ৫০০টি হাইস্কুলে ক্লাস আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, চলমান বিক্ষোভের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া আন্দোলন এরই মধ্যে রাজধানী প্যারিসের বাইরে দেশটির বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শিক্ষক সংকট প্রকট, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি এবং বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতেই শুরু হয় বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধ।
তবে আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া শিক্ষা বিভাগের ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। গত সপ্তাহ থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ; তাদের বড় অংশই কিশোর-কিশোরী। একই সময়ে বহু পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলো মঙ্গলবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছে ফরাসি প্রশাসন। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্বাভাবিক করার পাশাপাশি শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের চাপ ও স্কুলের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফ্রান্সের শিক্ষা খাতের এই অস্থিরতা এমন সময়ে তীব্র হয়েছে, যখন সরকার ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নয়, দেশটির বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি
সদ্য সংবাদ/এসএস